কাঠ বাদামের অপকারিতা ও উপকারিতা এবং গর্ভাবস্থায় কাঠ বাদাম খাওয়ার নিয়ম

কাঠ বাদামের অপকারিতা

কাঠ বাদামের অপকারিতা - বিশ্বের সব দেশে কাঠ বাদামের চাহিদা এবং উৎপাদন রয়েছে । এই কাঠ বাদাম অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সুস্বাধু খাদ্য । যা অনেক পুষ্টিগুণে ভরপুর । কিন্তু আপনি কি জানেন এই কাঠ বাদামের মধ্যে যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমন করে কাঠ বাদামের অপকারিতা ও রয়েছে !

সুচীপত্রঃআজকের আমাদের এই আর্টিকেলে কাঠ বাদামের অপকারিতা এবং উপকারিতা কি  এই সম্পর্কে বলার চেষ্টা করবো । অর্থাৎ বিশেষ করে কাঠ বাদামের আদ্যোপান্ত যেমন কাঠ বাদামের দাম কত বাংলাদেশে, গর্ভাবস্থায় কাঠ বাদাম খাওয়ার নিয়ম, অপকারিতা এড়ানোর জন্যে প্রতিদিন কয়টা কাঠ বাদাম খাওয়া উচিত  এবং কাঠ বাদামের মধ্যে কি কি পুষ্টিগুন থাকে এই নিয়ে কথা হবে ।

কাঠ বাদামের দাম কত বাংলাদেশে

কাঠ বাদাম বহু পুষ্টিগুনে গুণান্বিত একটি খাদ্য । মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সুস্বাধু খাদ্য হিসেবে সারা বিশ্বে এই কাঠ বাদামের প্রচুর চাহিদা রয়েছে । তাই এটির দাম ও বেশি হয়ে থাকে । 


বাংলাদেশে অনেক অনলাইন শপিং সেন্টারে এই কাঠ বাদাম পাওয়া যাচ্ছে হর হামিশা । একেক মার্কেটপ্লেসে একেক রকম দাম দিয়ে রাখেন। শপিং সেন্টার ছাড়াও লোকালি পাওয়া যায় এই কাঠ বাদাম বাংলাদেশে ।  


তবে এর দাম ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার ভিতরে হয়ে থাকে।  আবার অনেকে ৮০০ টাকার উপরে ও দাম হাঁকিয়ে বসে আছে । তবে নূন্যতম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বাজেট রাখলেই কাঠবাদাম পাওয়া যাবে হাতের মুঠোয় । 

কাঠ বাদাম কোথায় চাষ হয়

আমাদের দেশে এর চাষ হয় না বিশেষ করে । এটি দক্ষিন আফ্রিকার উষ্ণ তম জায়গা গুলিতে উৎপাদন হয় বেশি । এর পরে দক্ষিনপূর্ব এশিয়ার অনেক জায়গায় চাষ হয় এবং অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণতম অঞ্চলেও জন্মে থাকে । তাই এই কাঠ বাদামের দাম ও একটু বেশি । 


তবে আমেরিকায় ও এই কাঠবাদাম এর বিস্তার লাভ করছে সম্প্রতি কালে । শুধু এই কাঠ বাদামকে বাংলাদেশে কাঠ বাদাম নামে ডেকে থাকে  । তবে অন্যান্য দেশে কাঠ বাদামকে একেক নাম ডাকে  যেমন  ইবেলবো, মালাবার আখরোট, নিরক্ষীয় আখরোট, কেউ কেউ সমুদ্র আখরোট ও বলে থাকে ।  

গর্ভাবস্থায় কাঠ বাদাম খাওয়ার নিয়ম

গর্ভবস্থায় কাঠ বাদামের খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে অনেকের প্রশ্ন থাকে । অনলাইনে সার্চ করে দেখা গেছে যেহেতু কাঠ বাদাম বা কাজু বাদাম পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি খাদ্য এবং গর্ভবস্থায় স্বাস্থ্যের জন্যে পুষ্টিগুণের খুব দরকার সেহেতু এই প্রশ্নটা বার বার অনলাইনে ভেসে আসে । 


গর্ভবস্থায় কাঠ বাদাম খাওয়ার নিয়ম হিসেবে প্রতিদিন ২৮ গ্রাম পরিমান কাঠ বাদাম অথবা ১ আউন্স পরিমান কাঠ বাদাম খাওয়া যেতে পারে ।  এটি যেকোন প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে । তাছাড়া এর চেয়ে বেশি খেলে কাঠ বাদামের অপকারিতায় ভুগতে হয় অনেকটা । 


তবে যদি আপনার কাঠ বাদামে এলার্জির প্রবলেম থাকে তাহলে খাওয়া থেকে বিরত থাকা দরকার । তবে গর্ভবস্থায় কাঠ বাদাম  আপনার অনাগত সন্তান সহ মায়ের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । কিছু পুষ্টি গুন্ আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম । 


কাঠ বাদামের অপকারিতা

  • অনাগত সন্তান সঠিক রূপে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে কাঠ বাদামে যে ফলিক এসিড রয়েছে তা ভাল পরিমানে কাজ করে এই সময়। 
  • গর্ভবস্থায় এবং সন্তান জন্ম নেওয়ার পর অতিরিক্ত ওজন বৃদ্দির জন্যে বাদ প্রদান করে ।
  • গর্ভবস্থায় রক্ত নিয়ন্ত্রণ রাখতেও যথেষ্ঠ ভূমিকা রাখে । 
  • আয়রনের মাত্রার এদিকেই থাকায় রক্তশূন্যতা থেকে অনেকাংশে উপকার পাওয়া যায় ।
বাদাম যেহেতু আসলেই খুব উপকারী একটি খাদ্য সেহেতু এই কাঠ বাদাম সেবনের ক্ষেত্রে একটু ভাল করে পরিষ্কার এবং প্রস্তুত করে খাওয়া প্রয়োজন । তা নাহলে অন্যথায় একটু সমস্যায় পড়তে পারেন । 

গর্ভবস্থায় কাঠ বাদাম খাওয়ার নিয়ম হিসেবে ভাল করে প্রস্তুত করে এবং ভিজিয়ে পরিমিত খাবেন । তবে নির্দেশনা থাকে যে যাদের এলার্জি এবং কিডনি জাতীয় সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কাঠ বাদাম খাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্যে ।  

আরও জানুনঃ ডাবল গ্যাসের চুলার দাম কত ২০২৪

অপকারিতা এড়ানোর জন্যে প্রতিদিন কয়টা কাঠ বাদাম খাওয়া উচিত 

উপকারিতা থেকে অপকারিতা যদি বেশি হয়ে যায় । তাহলে সেটা বর্জন করা প্ৰয়োজন । কিন্তু আপনাকে এই কাঠবাদাম একদম বর্জন করতে পরামর্শ দেওয়া হয় না । পরিমিত কাঠ বাদাম খাওয়ার কথা বলা হয়েছে । 

কাঠ বাদামের অপকারিতা এড়ানোর জন্যে নিত্যদিন কয়টা কাঠ বাদাম খাওয়ার দরকার তা আমাদের জন্যে অত্যন্ত জরুরি জানা । 


একজন ব্যক্তি নিয়মি ৪ থেকে ৬ টি পর্যন্ত কাঠ বাদাম খেতে পারেন এতে করে আপনার শরীরের অনেক পুষ্টি ঘাটতি অনায়াসে পূরণ হয়ে যাবে । তবে পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা বলছেন এই কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার জন্যে । 


যেহেতু বেশি পরিমানে কাঠ বাদাম বা কাজু বাদাম খেলে একটু অস্বস্তি লাগতে পারে এবং কিছুটা অপকারিতা রয়েছে সেহেতু নিময় করে কাঠবাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন অপকারিতা এড়াতে । 


নিয়ম করে কাঠ বাদাম খেলে শিশুদের বুদ্ধি বিকাশের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । ফ্যাট থাকার কারণে পুষ্টিহীনতায় যারা ভুগছেন তাদের খাওয়া জরুরি এই কাঠবাদাম বা কাজু বাদাম ।  

কাঠ বাদামের মধ্যে কি কি পুষ্টিগুন থাকে

কাঠ বাদাম প্রচুর পুষ্টিগুণে ভরপুর । কিন্তু কি কি পুষ্টি গুন্ রয়েছে তা কিন্তু আমরা অনেকে জানিনা এবং কতটুক পরিমান কাঠ বাদাম আমাদের শরীরের জন্যে প্রয়োজন বা খেতে হয় । তা জানা ও খুব প্রয়োজন । পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা বলছেন ২৮ গ্রাম কাঠ বাদাম আমাদের শরীরের জন্যে যথেষ্ট বা ১ আউন্স । 

এই ১ আউন্স কাঠবাদামের মধ্যে কি পুষ্টিগুণ রয়েছে তা আমরা সবিস্তারে জানবো । কাঠবাদামের মধ্যে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, ডায়েটারি ফাইবার, পটাসিয়াম, ক্যালোরি, চর্বি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, চিনি,  ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন গুন রয়েছে যা আমাদের মানব শরীরের জন্যে অতীব দরকার । তবে এক আউন্সের চেয়ে বেশি খেলে কাঠ বাদামের অপকারিতা দেখা দিতেও পারে । 

কাঠ বাদামের উপকারিতা

কাঠ বাদামের উপকারিতা সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। কারণ এই কাঠবাদামের মধ্যে যে উপকারিতা তা নিজেকে খেয়ে উপভোগ করে নিতে হবে । কারণ স্বাদ কখনো মুখে বলে বা লিখে সম্পূর্ণ পূরণ করা যায় না।  তবুও আমরা আপনাকে কিছু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো ।


  • কাঠ বাদামের মধ্যে যে প্রোটিন রয়েছে তা গর্ভবতী নারীর প্রসবের ব্যথা সহ্য করার মত শক্তি জোগান দেই ।
  • কাঠবাদামের ক্যালসিয়াম মানুষের হাঁড়ের এবং দাঁতের জন্য যথেষ্ট উপকারী ।
  • কাঠবাদামে থাকা ফাইবার মানুষের হজমের খুবই উপকারী ।
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাট এটি কাঠবাদামে পাওয়া যায় যা মানুষের ওজন কমায় এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে খিদে থেকে মুক্তি দেয় ।
  • ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে কাঠবাদামের ভূমিকা যথেষ্ঠ ।
  • কাঠবাদামে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অকল্পক্ষতা কমিয়ে আনে এবং শরীরের অনেকাংশে ফোলাভাব কমাতে সহায়তা করে । 
  • কাঠবাদাম মানুষের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে ।

কাঠ বাদামের অপকারিতা

মানুষের জীবনে কাঠবাদামের উপকারিতা যেমন রয়েছে অবশ্যম্বাবী, তেমন করে কিছু  কাঠ বাদামের অপকারিতা ও রয়েছে কিছু । আমরা উপকারিতা সম্পর্কে জেনেছি এবার আমরা কিছু কাঠ বাদামের অপকারিতা সম্পর্কে জেনে আসি । জেনে রাখা ভাল কারণ অনেক সময় না জানলে হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায় । চলুন তাহলে অপকারিতা সম্পর্কে জেনে আসি ।

  • নিয়ম করে কাঠ বাদাম না খেয়ে যদি মুখের স্বাদে অতিরিক্ত খাওয়া হয় তাহলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে কারণ এতে ফ্যাট রয়েছে প্রচুর । 
  • বেশি খেলে মোটা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে । বিশেষ করে যারা ডায়েটে আছেন । 
  • যাদের শরীরে এলার্জির সমস্যা রয়েছে তাদের জন্যে এটি একটু ক্ষতিকর হতে পারে কাঠ বাদামের অপকারিতা হিসেবে ।
  • এনজাইমের সমস্যা তৈরী করতে পারে কিছু মানুষের জন্যে ।
  • কাঠ বাদামের অপকারিতা হিসেবে কাঠ বাদামে হাইড্রোকার্বন অ্যাসিড থাকার কারণে এটি অনেকের জন্যে টক্সিন বাড়াতে পারে । টক্সিন বাড়লে শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং সাথে নার্ভের ও সমস্যা দেখা দিতে পারে ।  

কাঠ বাদামের অপকারিতা নিয়ে লেখকের শেষ কথা

কাঠ বাদাম আমাদের জন্যে যতটা না উপকারিতা বয়ে আনে ঠিক তেমন করে কাঠ বাদামের অপকারিতা সম্পর্কে ধারনা রাখা আমাদের খুব জরুরি । সেটা আমরা এই আর্টিকেলে বলার চেষ্টা করেছি আপনাদের সুবিধার জন্যে । আশা করি কাঠ বাদামের অপকারিতা নিয়ে তেমন আর সমস্যা থাকার কথা নই । 


তারপর বলব যদি আপনাদের এই বিষয়ে কিছু জানার প্রয়োজন থাকে তাহলে আমাদের যোগাযাগ করার বাটনে গিয়ে ইমেইল দিয়ে যোগাযোগ করবেন চেষ্টা করবো আপনাদের সমস্যা সমাধান করার জন্যে । 

আপনার জন্যেঃ মেহেদী ডিজাইন ২০২৪ পিক

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সবারজন্যে.কম এর নীতিমালা মেনে এ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১