সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কাকে বলে

 

সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কাকে বলে

পোস্টসূচীপত্রসকাম ও নিষ্কাম কর্ম কাকে বলে - আমরা মানুষেরা সাধারণত কোন না কোন কর্ম করে থাকি। কর্ম ছাড়া মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। কিন্তু এই কর্মের মধ্যে একটি উদ্দ্যেশ্য  নিয়েই আমরা এই কর্ম সাধন করি। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে আমরা যে কর্ম করি এই কর্মের ধরন কি বা কর্ম কত প্রকার।তাই আজকে এই আর্টিকেলে শুধু কর্ম সম্পর্কে আমরা জানবো।

সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কাকে বলে। এবং সকাম কর্ম কী, নিষ্কাম কর্ম কী, কর্মবাদ কাকে বলে, কাম্য কর্ম কাকে বলে,কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদ, নিষ্কাম কর্মের উদ্দেশ্য কি, নৈমিত্তিক কর্ম কাকে বলে,সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কোনটি মানুষের জন্যে খুব দরকার এবং সকাম ও নিষ্কাম কর্মের মধ্যে কোন পথে মানুষ শান্তি লাভ করতে পারে। চলুন তাহলে আর দেরি না করে গভীরে প্রবেশ করি। 

কর্ম কী ?


সকাম কর্ম আর নিষ্কামকর্ম কি সে সম্পর্কে গভীর ভাবে জানার আগে জানতে হবে কর্ম কি ? " কৃ " ধাতু থেকে কর্ম শব্দের উৎপত্তি। যাকে আমরা কাজ বলি। কর্ম হল সব রকম কাজ কে বুজায়।  ভাল, মন্দ কিংবা স্বার্থ বিহীন কর্ম । কর্ম হলো মানুষের ইচ্ছশক্তির প্রকাশ। সনাতন ধর্মের প্রদান ধর্ম গ্রন্থ বেদ এই কর্ম কে তিন ভাগে বিভক্ত করেছে। যথা কর্ম, অকর্ম ও বিকর্ম।  
কর্ম : যে কর্ম মানুষেরা অপরের প্রীতি এবং উপকারের জন্য করা হয়, থাকে বলে সনাতন দর্শন শাস্ত্র মতে কর্ম। 

বিকর্ম : যে কর্ম শুধুমাত্র নিজের জন্যে বা নিজের স্বার্থের জন্যে সম্পাদন করা হয় সেটি হলো বিকর্ম।
 
অকর্ম : যে কর্ম শুধুমাত্র কর্তব্য রূপে সম্পাদন করে বা যেখানে কোন ফলের আশা নেই। তাকে সনাতন দর্শন শাস্ত্র মতে বলে অকর্ম। 

সকাম কর্ম কী


কটু আগে কর্ম সম্পর্কে জানলেন পাঠক বন্ধুগণ। এবার আসি সকাম কর্ম কাকে বলে বা সকাম কর্ম কি? " স " মানে হলো নিজ। কাম মানে হলো কর্ম। তাহলে কি দাঁড়াল ? সকাম কর্ম মানে হলো নিজের জন্যে কর্ম করা। বা নিজে ফল ভোগ করার জন্যে যে কর্ম তাকে সকাম কর্ম বলে। 

নিষ্কাম কর্ম কী


নিষ্কাম কর্ম হলো যেখানে কোন নিজের কর্ম নাই। " নি ঃ   " মানে হলো সংস্কৃত ভাষায় নাই। ষ্কাম মানে হলো সকাম। যেখানে নিজের হিতের জন্যে কোন কর্ম নাই। যে কাজের মধ্যে নিজে ফল ভোগ করার মত ইচ্ছা বা আকাঙ্খা নাই তাকে নিষ্কাম কর্ম বলে। আরো সহজ ভাবে বলতে হলে, যে কর্ম শুধু অপরের কল্যাণের জন্যে বা উপকারের জন্যে করা হয় তাকে নিষ্কাম কর্ম বলা হয়। যা মানুষের সাহার্য্যর জন্যে করা হয়  সেটি হলো নিষ্কাম কর্ম। 

কর্মবাদ কাকে বলে


সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কাকে বলে এই আর্টিকেলে কর্মবাদ সম্পর্কে বলার চেস্টা করি । কর্মবাদ একটি বিশেষ অবস্থা। ভারতীয় দর্শন শাস্ত্রে এই কর্মবাদ একটি নৈতিক ধারণা। এই মানব জীবনে যা কিছু আমরা কর্ম করি ভাল-মন্দ এই সব কর্মের একটি কর্মফল। কারণ মানুষের কর্মফল কখনো বিনষ্ঠ হয় না। 

মানুষের কর্মের মাধ্যমে শুভ- অশুভ, কর্ম পাপ-পুন্য সব কিছু সংরক্ষিত থাকে। তাই মানুষের নৈতিক কর্মের সংরক্ষণ নিয়ম এই কর্মবাদ। কর্মবাদের মূল কথা হচ্ছে আপনার মানব জীবনের সমস্ত কর্মফলের সুখ দুঃখ ভোগের কারণ কেবলমাত্র ।    

কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদ


সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কাকে বলে এই কথা গুলি কর্মবাদের মধ্যে নিহিত রয়েছে । সনাতন ধর্ম মতে প্রত্যেক মানুষকে কর্মবাদের মাধ্যম দিয়ে যেতে হয়। এই কর্মবাদ সম্পর্কে আগে বলা হয়েছে। তার পর ও আরো গভীর ভাবে বলার চেষ্টা করবো। এই কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদ এর মধ্যে একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। 

সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কাকে বলে

কারণ কর্মবাদের মাধ্যমে মানুষকে জন্তরবাদে যেতে হয়। কর্মবাদ মানে হলো সমস্ত কর্মের ফলভোগ। সেটি হোক ভাল-মন্দ কিংবা পাপ-পুন্য এই সব কিছু।  আপনি সারাজীবন যা কর্ম করবেন, সব কিছুর একটি ফল আপনার জন্যে সঞ্চয় থাকবে।  সেই কর্মের ফল ভোগ আপনাকে করতে হবেই।  

এবং সনাতন ধর্মের দর্শন শাস্ত্র মতে এই কর্মবাদের মাধ্যমে জন্মান্তরবাদের ব্যাখ্যা রয়েছে।  একজন মানুষ তার কৃত কর্মের জন্যে তাকে সেই রকম ফল ভোগের মত জন্ম লাভ করে সেই কর্মফল ভোগ করতে হয়। কারণ এক জন্মের কর্মের ফল শেষ না হলে তাকে আবার সেই রকম জন্ম নিতে হয়।  এমনকি প্রত্যেকের কর্মের উপর তার জন্ম ও নির্ভর করে। 


নৈমিত্তিক কর্ম কাকে বলে


যে কর্ম নির্দিষ্ট কিছু কে উপলক্ষ করে করা হয় তাকেই নৈমিত্তিক কর্ম বলে। যেমন সূর্যগ্রহণ কালে গঙ্গাস্নান। আবার ঈদ উপলক্ষে নামাজ। এই প্রকারের সব কর্মকে নৈমিত্তিক কর্ম বলে। তবে মনে রাখতে হবে এই সব কর্ম কিন্তু বন্ধনের কারণ।

নিষ্কাম কর্মের উদ্দেশ্য কি এবং কারা এই নিষ্কাম কর্ম করে থাকে 


পূর্বেই আমরা সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কাকে বলে সেই সম্পর্কে বলার চেষ্টা করেছি। এবার নিষ্কাম কর্মের উদ্দেশ্য কি এবং কারা এই নিষ্কাম করে থাকে। নিষ্কাম মানে যেখানে ব্যক্তিগত কোন কামনার উদ্দেশ্যে কর্ম করা হয় না তাকেই নিষ্কাম কর্ম বলা হয়। যা অপরের জন্যে করা হয়ে থাকে।  নিষ্কাম কর্মের উদ্দেশ্য অনেক রকম হয়ে থাকে। 

নিষ্কাম কর্মের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে হলে আগে জানতে হবে যে , সুখ-দুঃখ এবং প্রশান্তি এই সব কিছুর মুলে রয়েছে এই কর্মের পার্থক্য।  আমরা স্বভাবিক ভাবে সুখের জন্যে কর্ম করে থাকি। পক্ষান্তরে এই কর্মের প্রভাবে আমাদের সুখ দুঃখ কে ভোগ করতে হয় আমাদের কামনা ও বাসনার উপর নির্ভর করে। 

নিষ্কাম কর্ম ঠিক তার উল্টো কাজ করে। যেমন কেউ নিজের কামনা বাসনা চরিতার্থ করার কথা বাদ দিয়ে শুধু অন্যের উপকার করে শান্তি লাভ করে। সেখানে কোনো নিজের কামনা বাসনা কাজ করে না।

কারা এই নিষ্কাম কর্ম করে থাকে 


কারা এই নিষ্কাম কর্ম করে থাকে? যারা এই পৃথিবীর কল্যাণের জন্যে। যারা পৃথিবীর মানুষের তথা প্রত্যেক জীবের কল্যাণের জন্যে চিন্তা করে তারাই এই নিষ্কাম কর্ম করে থাকে। এই স্বার্থহীন নিষ্কাম কর্ম তথা প্রকৃতির সুখের জন্যে কর্ম সমূহ তারাই করেন যারা পার্থিব জীবনের সুখ ত্যাগ করেছেন। 

তার মধ্যে বনে যে ঋষিরা ধ্যানে বসে জগতের কল্যাণের জন্যে সর্বদায় প্রার্থনায় নিমগ্ন আছেন। যারা মানুষের কল্যানের চিন্তা করে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন মানুষের সেবায় তাদের জন্যে এই নিষ্কাম কর্ম। কারণ এই নিঃস্বার্থ নিষ্কাম কর্ম মানুষের মনে অফুরন্ত শান্তি প্রদান করে যা মুখের ভাষায় বলা যায় না। সেটি শুধু অনুভবের বিষয়।
 

সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কোনটি মানুষের জন্যে খুব দরকার 


সকাম ও নিষ্কাম একটি দ্বারা আরেকটি সম্পর্কে ভাল ধারণা পাওয়া যায়। এখন কথা হলো আমাদের প্রতিদিনের জীবনে সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কোনটি মানুষের জন্যে উৎকৃষ্ঠ এবং খুব দরকার। ধরুন দিন আর রাতের মত। রাত না থাকলে যেমন দিনের সুন্দর্য উপভোগ করা যায় না ,ঠিক তেমন করে সকাম কর্ম আছে বলেই নিষ্কামের এত মূল্য। 

সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কাকে বলে

যেহেতু আমরা সমাজ এবং সংসার বদ্ব মানুষ, সেহেতু আমাদের চাহিদা থাকবেই এইটা স্বাভাবিক। আমাদের যেহেতু পরিচালনা করার জন্যে দায়বদ্বতা আছে ঠিক তেমন আমাদের সকাম কর্ম বা নিজের হিতের জন্য এবং পরিবারের জন্যে সকাম কর্ম করা বাঞ্চনীয়। কিন্তু একটি কথা মনে রাখতে হবে বেশি চাহিদা মানুষকে অমানুষে পরিণত করে। কারণ মানুষের মনের চাহিদার কোন শেষ নেই।
 
আপনি যত বেশি পাবেন তত বেশি আরো পাওয়ার জন্যে উৎসুক হয়ে থাকবেন। তাই আমাদের একটি করণীয় আছে সেটি হচ্ছে , সকাম কর্ম করে আমাদের কে নিষ্কাম কর্মী হতে হবে। প্রয়োজনের বাইরে যেন আমরা বেশি আশা না করি। এর ফাঁকে ফাঁকে যেন অপরের মঙ্গল কামনার্থে বা জনহিতার্থে আমরা নিষ্কাম কর্মে ব্রতী হয়। 

কারণ নিষ্কাম কর্ম সবচেয়ে উৎকৃষ্ঠ কর্ম গুলির মধ্যে একটি। এতে করে আপনি সংসার বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারবেন অনায়াসে। এক কথায় সব মানুষের জন্যে নিষ্কাম কর্ম প্ৰয়োজন এবং জরুরি।

সকাম ও নিস্কাম কর্ম কাকে বলে এই নিয়ে শেষ কথা


পরের বর্ণিত তথ্য, সকাম ও নিষ্কাম কর্ম কাকে বলে এই নিয়ে অনেক কথা হয়েছে বা বলার চেষ্টা করেছি আমার প্রিয় পাঠকগণ। এই কর্ম সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখলে মানুষের আর কোন ভয় থাকবেনা। কেননা আমাদের মনের অজান্তে বা জানা বসত আমরা অনেক রকম কর্ম করে থাকি যা নিজের স্বার্থের জন্যে অপরকে ঠকানোর চিন্তা করি। সেই সম্পর্কে অন্তত সিদ্বান্ত কিংবা সংশোধন হয় যাবে। তাই আজকের মত শেষ করছি। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং অপরের মঙ্গল কামনা করবেন।  

প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQ)


সকাম ও নিষ্কাম কর্মের মধ্যে কোন পথে মানুষ শান্তি লাভ করতে পারে ? 
মনে রাখতে হবে ত্যাগের মাধ্যমে মানুষ অমৃত শান্তি লাভ করতে পারে। আর এই সকাম কর্ম ফাঁকে নিষ্কাম কর্ম করলে আপনি অমূল্য শান্তি করতে পারবেন। 

প্রত্যেকের জন্যে কি নিষ্কাম কর্ম প্রয়োজন ?
না। শুধু মাত্র যারা শান্তির খুঁজ করে তারাই চাইলে এই নিষ্কাম কর্মে নিয়োজিত হতে পারে। 

মানুষের কর্ম কি শেষ হয় ?
না। মানুষের কর্মের শেষ নেই। মৃত্যু অব্দি মানুষকে কর্ম করে যেতে হয়। কারণ কর্ম ছাড়া মানুষ ক্ষনিকের জন্যে ও বেঁচে থাকতে পারে না।  

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সবারজন্যে.কম এর নীতিমালা মেনে এ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১