জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার এবং জরায়ু মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা

জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার

জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার ঃ মেয়েদের ৩৫ বা ৪০ বছর পার হলে অনেক সমস্যার সাথে সাথে জরায়ু ক্যান্সারের একটা বিরাট সমস্যা হয়ে থাকে। এবং নিঃশব্দে ভয়ংকর প্রাণঘাতী জরায়ু ক্যান্সার মেয়েদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। এই সমস্যা নিয়ে অনেকের অনেক কিছু জানার আছে। জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ গুলি কি? এবং কিভাবে এই জরায়ু ক্যান্সার থেকে প্রতিকার পাওয়া যাবে।

আজকে আমরা আশা করি জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বলার চেষ্টা করব। এবং এর সাথে থাকছে, জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কারণ ও লক্ষণ, জরায়ু ক্যান্সার পরীক্ষা, জরায়ু ক্যান্সার হলে কতদিন বাঁচে,জরায়ু মুখের ক্যান্সার হওয়ার রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো কী? জরায়ু ক্যান্সার হলে কতদিন বাঁচে, জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ,জরায়ু মুখের ক্যান্সার হলে চিকিৎসা কি? সর্বশেষে জরায়ু ক্যান্সারের টিকার দাম নিয়ে ও কথা বলার চেষ্টা করব। 
পোস্টসূচীপত্র

জরায়ু ক্যান্সারের কারণ ও লক্ষণ


জরায়ু ক্যান্সার হওয়ার ভয়ে থাকি আমরা সহসা। লক্ষণ গুলি কি কি তা কিন্তু আমরা অনেকে জানিনা। জরায়ু ক্যান্সারের অনেক গুলি কারণ ও লক্ষণ থাকতে পারে। তার মধ্যে আমরা কিছু কিছু গরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরবো। 


  • অনিয়মিত রক্তস্রাব
  • রক্তের সাথে স্রাব যাওয়া 
  • তলপেট এবং কোমর ব্যাথা হলে 
  • দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব 
  • অতিরিক্ত সাদা স্রাব
  • মাসিক বন্ধ হওয়ার পর ও আবার রক্তপাত
  • সহবাসের সময় রক্তপাত 
  • প্রস্রাবে ব্যাথা 

তাছাড়া প্রাপ্ত বয়স হওয়ার আগে যারা যৌনচার করে থাকে তাদের ও এই জরায়ু ক্যান্সার হয়ে থাকে বেশি। তাই জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আমরা ভাল করি জানি এবং নিজে সচেতন হয়। 


জরায়ু মুখের ক্যান্সার হওয়ার রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো কী?


জরায়ু ক্যান্সার হলেই আমরা যেমন ভেঙ্গে পড়ি তেমন করে জেনে রাখা ভাল।  এবং মায়েদেরকে এই রিস্ক ফ্যাক্টর গুলি জেনে রাখা খুব বেশি কর্তব্য বলে মনে করি এই জন্যে যে, তারা ও যেন তাদের মেয়েদের কে শিক্ষা দিতে পারে । চলুন তাহলে আমরা এই জরায়ু ক্যান্সার হওয়ার রিস্ক ফ্যাক্টর গুলি জানি। 
  • প্রাপ্ত বয়স হয়ার আগে বিয়ে দেওয়া বা করা 
  • উপযুক্ত বয়স না হয়ার আগে সন্তান ধারন করা
  • একাধিক ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন করলে 
  • নির্দারিত সময় বাদ না দিয়ে অতিরিক্ত গর্ভ ধারন করলে
  • বেশি বেশি জন্মনিরোধক বড়ি সেবন করলে
  • ক্লামাইডিয়া ভাইরাসে ইনফেকশন হলে 
উপরুক্ত কারণ সমূহের জন্যে মেয়েদের জরায়ু ক্যান্সার হতে পারে বেশির ভাগ। কিন্তু এই কারণ গুলি নিম্নমধ্যবিত্ত্ব দের বেশি হয়ে থাকে শিক্ষা না থাকার কারণে।  কিন্তু যাদের শিক্ষা আছে এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সচেতন তারা অনেকাংশে বেঁচে যায়। তার পর বলব যারা এই জরায়ু  ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার  সচেতন তারা অন্যকে সচেতন করুন।  কারণ এই সমস্যাগুলির কারণে অনেক মেয়েদের জীবন বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। 

জরায়ু ক্যান্সার পরীক্ষা


এই জরায়ু ক্যান্সার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলে আসছে।জরায়ু হলো নারীদেহের মধ্যে একটি অন্যতম অংশ। যা নারীদেহের জরায়ু নিচের দিকে হয়ে থাকে। এবং বাংলাদেশে জরিপে দেখা যায় ৩০ বছরে উর্ধে প্রায় ১২ হাজার নারীদের মধ্যে এই জরায়ু ক্যান্সার হয়। তারমধ্যে ৫০ শতাংশ নারী জরায়ু ক্যান্সারে মৃত্যু বরণ করে।

জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার

তবে মনে রাখতে হবে প্রথমের দিকে এই জরায়ু ক্যান্সার ধরা পড়লে এই রোগ সম্পূর্ণ ভাবে মুক্তি পাওয়া যায়। এমনকি জরায়ু না কেটে। এই জরায়ুর নিচের মুখ কে বলে (Cervix) সারভিক্স। এই জরায়ু ক্যান্সার পরীক্ষা করার নাম হলো কলপোস্কোপি। জরায়ুতে ক্যান্সার নির্ণয়ে এই কলপোস্কোপি পরীক্ষার অবদান বেশি। তাই চলুন এই সম্পর্কে আরো একটু ভাল করে জেনে আসি। 

জরায়ু ক্যান্সার পরীক্ষায় কলপোস্কোপি কিভাবে করে ? 


একজন মহিলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এই কলপোস্কপি পরীক্ষা করে থাকেন। সেটা হতে পারে তার নিজস্ব চেম্বারে অথবা কোন ক্লিনিকে বা হাসপাতালে। অর্থাৎ এই পরীক্ষা করার সু ব্যবস্থা যেখানে আছে সেখানেই তিনি করে থাকেন এই পরীক্ষা।  একজন নারীর জরায়ু এবং যোনিপথ গভীর ভাবে ( Colposcope) কলপোস্কপ নামের এক বিশেষ ক্যামরার সাহায্যে গভীরভাবে নিরিক্ষন করে থাকে।
 
এবং এই নিরিক্ষনের মাধ্যমে যদি জরায়ুর ভিতর কোন সমস্যা আছে বলে সন্দেহ করে থাকে তাহলে সেখান থেকে কোন সন্দেহজনক স্তান থেকে কোষ নিয়ে সেটিকে ল্যাবরটরিতে পাঠানো হয় এবং আরো গভীর ভাবে বায়োপসি করে সমস্যা গুলি নির্ধারন করে থাকে ।

জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ


জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ যেমন আছে তেমন প্রতিরোধ করা সম্ভব।নারীদের দেহে যত রকম রোগ আছে সব রোগের মধ্যে এই জরায়ু ক্যান্সার একটি অন্যতম ভয়াবহ রোগ। তাই সচেতন নারী বা মহিলারা এই জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ থেকে প্রতিকার পাই। কিন্তু বেশি হয়ে গেলে বা দেরী হয়ে গেলে এর থেকে নিস্তার পেতে খুব বেগ পেতে হয়। চলুন তাহলে কিভাবে জরায়ু ক্যান্সার থেকে প্রতিকার পাওয়া যায় সেটা একটু করে জেনে আসি। 

  • মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে না দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার যায়। 
  • অধিক সন্তান ধারণ না করা ও একটি জরায়ু ক্যান্সারের প্রতিকারের মাধ্যম। 
  • ধুম পান না করা। 
  • নির্দিষ্ট বয়স থেকে জরায়ু ক্যান্সারের প্রতিরোধক টিকা দেওয়ার মাধ্যমে। 
  • ৩০  থেকে ৩৫ বছরের বয়সের প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর ভায়া টেস্ট করা। 
  • একাধিক যৌন সঙ্গীর সাথে মেলামেশা না করা।
  • যৌন-প্রজননতন্ত্র সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্বি করা। 

জরায়ু মুখের ক্যান্সার হলে চিকিৎসা কি?

জরায়ু মুখের ক্যান্সার বলে শুধু কথা নয়,  সকল ক্যান্সারের চিকিৎসা রয়েছে । তবে ক্যান্সারের কিছু ধাপ থাকে বা স্টেজ থাকে।  মানে হলো ক্যান্সারের বীজ কতটুকু ছড়িয়েছে বা বিস্তার লাভ করেছে। এই কারণে এই জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ দেখে এর অবস্থা নির্ণয় করতে হয় এবং তা প্রতিকার করে সম্ভব। 

তাই আজকের এই আর্টিকেলে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার মাধ্যমে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের হলে চিকিৎসা কি সেই সম্পর্কে বলার চেষ্টা করছি। 

জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার

একটু আগেই বললাম জরায়ু ক্যান্সার হলে তা স্টেজ অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে থাকে। রেডিওথেরাপী, কেমোথেরাপী এবং সার্জারী এই তিন ভাবে জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসা করে থাকে। কিছু সাধারণ চিকিৎসা ও দিয়ে থাকে মূল চিকিৎসার সাথে। 

তবে ব্যথানাশক ঔষধ, ইনজেকশন বা এন্টিবায়োটিক অথবা ব্লাড ট্রান্সফিউশন এর মত ইত্যাদি চিকিৎসা দেওয়া হয় এটি সম্পূর্ণ লক্ষণের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। এই জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসার মধ্যে প্রথম স্টেজ এবং দ্বিতীয় স্টেজ থাকতে এটির সার্জারী করে চিকিৎসা করা হয়। 

তবে প্রথম এবং দ্বিতীয় স্টেজ পার হয়ে অতিরিক্ত হয়ে গেলে আর হাতের নাগালে থাকে না এই জরায়ু ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা। কারণ তখন ক্যান্সারের বীজ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু রেডিওথেরাপি দিয়ে থাকে সার্জারি করার পূর্বে। কারণ এই রেডিওথেরাপি দিয়ে দিয়ে এর সাইজ কমিয়ে আনা হয়।
 
আর কেমোথেরাপি ডাক্তার এর অবস্থা ও প্রয়োজন বুজে দিয়ে থাকেন। এবং এই জরায়ু ক্যান্সারের সার্জারী করার পরে নিয়মিত ৩ মাস ৬ মাস এবং ১ বছর অন্তর অন্তর চেকআপে থাকতে হয়।  

জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার এই বিষয়ের উপর লিখিত আর্টিকেলে এবং জরায়ু ক্যান্সারের টিকার দাম সম্পর্কে বলার চেষ্টা করব। জরায়ু ক্যান্সার মানে সারভাইকাল ক্যান্সারের ভ্যাকসিন । হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস এটি ক্যান্সারের জন্যে দায়ী বলে থাকে মেডিকেল সাইন্সে। এটি একটি নিরব ঘাতক ক্যান্সার বা রোগ বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে পৃথীবিতে এটি একমাত্র ক্যান্সার যেটির টিকা আবিস্কৃত। 


জরায়ু ক্যান্সারের টিকা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক কিছু হয়েছে কিন্তু জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার করার জন্যে এবং গত ২০২৩ সালের সেপ্টম্বর মাস থেকে সরকারীভাবে বিনা মুল্যে এই জরায়ু ক্যান্সারের টিকা প্রদান করবে বলে ঘোষনা দিয়েছে সরকারের মন্ত্রানালয় বিভাগ। কিন্তু বেসরকারী ভাবে এর ফি ৭৫০০ টাকা করে এই এইচপিভি ভ্যাকসিন বা  টিকা কিনে দিতে হত। 


এবং এটি শুধু কয়েকটি বেসরকারী হাসপাতালে পাওয়া যেত। যেহেতু এখন এই টিকা সরকারিভাবে প্রদান করছে । এবং আমাদের দেশে এই জরায়ু ক্যান্সারে  অনেক নারী মৃত্যু হয় বলে সরকারী ভাবে এই সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে আবার স্কুল কলেজেও এই টিকা প্রত্যেক ১০ থেকে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্প করে ডোজের মাধ্যমে দিয়ে থাকে। 


তবে আমাদের পাশের দেশ ভারতে এই টিকা সরকারী ভাবে এবং বেসরকারী ভাবে ও পাওয়া যায়। তবে বেসরকারী ভাবে এই জরায়ু ক্যান্সারের টিকা ২০০-৪০০ টাকার মধ্যে ভারতের বাজারে পাওয়া যাবে বলে বলা হয়েছে । কারন এই টিকা প্রায় এক দশক ধরে চেস্টা করে বায়োটেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের সাথে সিরাম ইনস্টিটিউট যৌথভাবে  তাদের দেশে তৈরি করেছে। 


জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার শেষ কথা


এই জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে অনেক কিছুই আলোচনা হয়েছে । এবং আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে একজন নারীর সচেতনাতা বার্তা পৌঁছিয়ে দেওয়ার। তারপর  এই রকম সচেতন মূলক পোষ্ট করার চেষ্টা থাকবে সাথেই থাকবেন আশা করি

বেশিরভাগ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী ( FAQ )

জরায়ু ক্যান্সার কি কারণে হয় ?

এটি একটি ভাইরাস জরায়ু ক্যান্সারের জন্যে প্যাপিলোমা ভাইরাস দায়ী। এই ভাইরাস যে পুরুষের মধ্যে থাকেতার সাথে দৈহিক মিলনের মাধ্যমে এটি নারীদের মধ্যে ঢুকে যায়। তবে এই ভাইরাস ঢুকার সাথে সাথে

ক্যান্সার হয় না।

 

জরায়ু ক্যান্সারের টিকা কোথায় পাওয়া যায় ?

জরায়ু ক্যান্সারের প্রতিকারের জন্যে এই টিকা এখন দেশে বিনামুল্যে সরকারী হাসপাতালে পাওয়া যায় ।

এবং বেসরকারী ভাবে পাওয়া যায়। তবে বেসরকারী ভাবে এই জরায়ু ক্যান্সারের টিকা একটু দাম দিয়ে কিনে

নিতে হয় । 


জরায়ু ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ কি কি ?

স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া পরিয়ড চলা কালীন অবস্থায় । এবং দৈহিক মিলনের পর রক্তপাত

হওয়া। তারপর রয়েছে দৈহিক মিলনের সময় অস্বস্তি  । যৌনিতে ব্যথা অনুভব করা বিশেষ করে প্রস্রাবের সময়।

আরো অনেক লক্ষণ রয়েছে এই জরায়ু ক্যান্সার হওয়ার ক্ষেত্রে । 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সবারজন্যে.কম এর নীতিমালা মেনে এ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১