নবজাতকের সর্দির লক্ষণ এবং কাশি হলে কি করণীয়
নবজাতকের সর্দির লক্ষণ ঃ নবজাতকের অনেক রকম শারীরিক সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল নবজাতকের সর্দি । কারন এই সর্দি থেকে ধীরে ধীরে কাশি এবং নিমোনিয়ায় রুপ নেয় । যেহেতু নবজাতকেরা কথা বলতে পারে না বা ভাষা বুজানোর ক্ষমতা নেই সেহেতু তাদের এই সমস্যার কথা বা সর্দির লক্ষণ গুলি আমাদের জানা খুব প্রয়োজন। এবং অনেকে এই নবজাতকের সর্দির লক্ষণ সম্পর্কে জানার জন্যে এই ব্লগে এসেছেন।
পোস্টসূচীপত্রআশা করি আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন । কারন আমরা আজকে এই নবজাতকের সর্দির লক্ষণ কি , নবজাতকের সর্দি কাশি দূর করার উপায়, নবজাতকের শিশুর সর্দি হলে করণীয় এবং নবজাতকের সর্দির ঔষধ কি হতে পারে এই সব কিছু নিয়ে আলোচনা করব আমাদের সাথে থাকবেন আশা করি। আজকে নবজাতকের এই সর্দি সমস্যা নিয়ে ধারনা থাকলে প্রাথমিক সমস্যা গুলি আপ্নারা নিজেরাই সমাধান করতে পারবেন ।
নবজাতকের সর্দির লক্ষণ গুলি কি কি
কিভাবে আপনি বুজবেন এই নবজাতকের সর্দি হয়েছে বা নবজতকের সর্দির লক্ষণ গুলি কি ? এইটা একটা বড় সমস্যা আমাদের জন্যে নবজাতকের সর্দির লক্ষণ বুজতে পারা। যেহেতু নবজাতক শিশুরা কথা বলতে পারে না । তাহলে চলুন আমরা জেনে আসি কিভাবে নবজাতকের সর্দির লক্ষণ গুলি বুজা যায় ।
- ১০১ ডিগ্রী ফারেনহাইট জ্বর থাকা
- নাক দিয়ে পানি পড়া
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া
- ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া
- ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া
- মেজেজ খিটখিটে হওয়া
- বুকের দুধ টেনে খেতে অপারগতা
- ক্ষুধা না থাকা
- অস্তিরতা
- ঘন ঘন হাঁচি
- নাক জাম হয়ে নিশ্বাস নিতে কস্ট হওয়া
এই সমস্ত লক্ষণ হলে মনে রাখতে হবে নবজাতকের সর্দি হয়েছে। এবং অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো সেই সময় খুব বেশি প্রয়োজন। কারন এই সব বিষয়ে কোন অবহেলা না করাই শ্রেয় বলে আমরা মনে করি।
নবজাতক শিশুর সর্দি হলে করণীয়
কারন যে ঘরে আলো বাতাস পর্যাপ্ত পরিমান আসা যাওয়া করে না সেই রুমে জিবানু হতে পারে এবং বিভিন্ন রকম ব্যকটেরিয়ার আবির্ভাব হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে । তার সাথে নবজাতক শিশু বার বার ঘামছে কিনা তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
কারন হচ্ছে এই ঘাম আবার শরীরে প্রবেশ করে সর্দি হওয়া এমনকি কাশি হয়ে মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে। তাই বার বার করে ঘাম হলে তা সুতির কাপড় দিয়ে মুছে দিন। ভাল করে সারা শরীর গরম কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখা। এই কাজগুলি করার মাধ্যমে আপনার নবজাতক শিশুর সর্দি থেকে মুক্ত রাখতে পারবেন বলে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকে।
নবজাতকের সর্দি কাশি দূর করার উপায়
নবজাতকের সর্দি কাশি লক্ষণ দেখলে আমাদের একটু সচেতন হওয়া খুব জরুরি। এবং খুব এলার্ট থাকার প্রয়োজন। চলুন নবজাতকের সর্দি কাশি দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় আমরা দেখে আসি । যেগুলির মাধ্যমে আপনি খুব সহজে এই সর্দি কাশি থেকে নবজাতককে রক্ষা করতে পারবেন।
- বিশেষ করে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখার চেষ্টা করা
- ঘন ঘন বুকের দুধ এবং তরল জাতীয় পানীয় পান করান
- হালকা কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিন
- যথেষ্ট পরিমান বিশ্রামের জন্যে উপযুক্ত জায়গার ব্যবস্থা করুন
- ২ বছরের বেশি বাচ্চাদের কমলালেবুর রস পান করাতে পারেন পরিমান মত।
উপরুক্ত কাজ গুলি বিশেষ ভাবে দৃষ্টি দিয়ে কার্য সম্পাদন করলে আর কোন ভয় তাকে না বিশেষ করে নবজাতকের সর্দি কাশি হওয়ার ক্ষেত্রে। তাই ঘরোয়া ভাবে আপনি এই সর্দি কাশি দূর করতে পারেন এই পদ্বতিগুলি মেনে চলে।
আরো পড়ুন ঃ
নবজাতকের সর্দির ঔষধ
হঠাৎ করে নবজাতকের যদি সর্দি হয় বা কাশি হয়ে যায় তখন অনেক সময় আমরা হতভম্ব হয়ে যায়। কিন্তু ডাক্তাররা এমন কিছু ঔষধ আমাদের নবজাতকের সর্দির লক্ষণ বা কাশি দেখে দিয়ে থাকেন । এই ক্ষেত্রে আমাদের একজন বাংলাদেশী সনাম ধন্য ডাক্তার কিছু ঔষধ সর্দির ও কাশির জন্যে রিকমেন্ড করেছেন।
কিভাবে এই ঔষধ গুলি কোন মাত্রায় দিবেন । কোন বয়সের শিশু এবং নবজাতকের জন্যে দেওয়া যাবে সে ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন। ডাঃ আহমেদ নাজমুল আনাম
(সহকারী অধ্যাপক শিশু, কিশোর, নবজাতক এবং শিশু হৃদরোগ ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ। FCPS, MD- Assistant Professor, ICMH) তিনি বলেছেন দুটি ঔষধ আপ্নারা ঘরে অবশ্যম্ভাবী রাখতে পারবেন হাতের নাগালে ।
এই ঔষধ গুলি খুব বেশি প্রয়োজন হয় । এবং ডাক্তারেরা ও বেশির ভাগ ঔষধ গুলি দিয়ে থাকেন । সেগুলি হল ১. এলাট্রল ২. এমব্রোক্স
নবজাতক সর্দির লক্ষণ এবং শিশুদের কাশির জন্যে ঔষধের যে ডোজ দেবেন
এলাট্রল সিরাপ ৬ মাস থেকে ২ বছর - ১.২ (আধা) চামচ করে ১ বার
এলাট্রল সিরাপ ২ বছর থেকে ৬ বছর - ১.২ (আধা ) চামচ করে ২ বার
এলাট্রল ড্রপ ৩ থেকে ৪ মাস - ০.৫ ml করে ১ বার
এলাট্রল ড্রপ ৪ থেকে ৬ মাস - ১ ml করে ১ বার
========================================
এমব্রোক্স ড্রপ ৬ মাস পর্যন্ত ০.৫ ml করে ২ বার
এমব্রোক্স ড্রপ ৬ থেকে ১ বছরের জন্যে ১ ml করে ২ বার
এই ডোজ গুলি সাধারণ ভাবে চালু করে দিলেই আশা করি ভাল হয়ে যায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী। কিন্তু তার পর ও যদি আপনার শিশুর কাশি সর্দি না যায় তাহলে আপনি খুব তাড়াতারা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। তবে এই ঔষধ গুলি আপনি নির্দ্বিধায় খাওয়াতে পারেন।
নবজাতকের সর্দির লক্ষণ এবং কাশি থেকে বাঁচার জন্যে সাবধনতা
যেহেতু নবজাতক শিশু কথা বলতে পারে না সেহেতু আপনার হাত জিবানুমুক্ত রাখা এটি সাবধানতার ক্ষেত্রে প্রথম সতর্কতা। তাছাড়াও আরো কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি ।
- আপনার বনবজাতক শিশুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সময় মত টিকা ভ্যাক্সিন দিচ্ছে কিনা বা দিয়েছে কিনা সেই বিষয়ে খেয়াল রাখা।
- সর্দি কাশি আছে এমন ব্যক্তির কাছে আপনার শিশুকে দিবেন না বা দূরে রাখুন।
- খেয়াল রাখতে হবে নবজাতকের শ্বাস প্রশ্বাস নিতে শব্দ হচ্ছে কিনা বা কষ্ট হচ্ছে কিনা।
এই কয়েকটি বিষয় ভাল করে লক্ষ্য রাখলে আপনার নবজাতক শিশুর সর্দি কাশি থাকে বাঁচাতে পারবেন । তাছাড়া ও সর্দি কাশি শীতকালে লেগেই থাকে তাই শিশুকে কোলে নেওয়ার সময় বা স্পর্শ করার সময় আপনার হাত শুষ্ক কিনা সেই দিকে একটু নজর রাখা জরুরি ।
নবজাতকের সর্দির লক্ষণ এবং কাশি হলে কি করণীয় বিষয়ে শেষ কথা
নবজাতকের সর্দির লক্ষণ এবং কাশি নিয়ে আমরা অনেক ক্ষন ধরে ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তারপর ও বলা বাহুল্য যে সাবধানতার সাথে নবজাতক শিশুর সর্দি কাশির লক্ষণ গুলি সম্পর্কে ধারনা না থাকলে অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হয়।
এমনকি নিমোনিয়া পর্যন্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে প্রবল। তাই উপরুক্ত বিষয় গুলি খুব ভাল ভাবে জেনে পরিচর্যা করবেন। আশা করি আপনার নবজাতকের সর্দির লক্ষণ এবং কাশির লক্ষণ সমুহ সম্পর্কে আর তেমন কোন সমস্যা হবে বলে আমরা মনে করি না।
অনবরত চিন্তার বিষয়গুলি (FAQ)
নবজাতকের সর্দির লক্ষণ দেখা দিলে ততক্ষনাত কি করা দরকার ?
নবজাতকের সর্দির লক্ষন দেখা দিলে তাৎক্ষনিক এমব্রোক্স ড্রপ দিতে পারেন । ডোজ গুলি হল
এমব্রোক্স ড্রপ ৬ মাস পর্যন্ত ০.৫ ml করে ২ বার
এমব্রোক্স ড্রপ ৬ থেকে ১ বছরের জন্যে ১ ml করে ২ বার ।
এরপর অবস্তার পরিবর্তন না হলে বিশেষজ্ঞ দেখানো খুব বেশি জরুরি।
ঠান্ডার সময় নবজাতক শিশুর সর্দির ও কাশি থেকে বাঁচার উপায় কি ?
সর্দি কাশি আছে এমন ব্যক্তি থেকে দূরে রাখুন। এবং গরম কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়ার কথা বলে থাকেন। তাছাড়া ও কুসুম গরম পানিতে সুতির কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে পারেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url