ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা - বর্তমানে যেদিকে তাকাবেন মোবাইল ছাড়া কিছু নেই। শিশু, কিশোর, যুবক, যুবতী এমনকি বৃদ্ব পর্যন্ত সবাই মোবাইল নিয়ে ঝুঁকছে। সব শ্রেণীর মানুষদের মোবাইল এখন প্রাণ হয়ে গেছে কেমন জানি। আমরা সবাই যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছি দিন দিন। কিন্তু সব কিছু বাদ দিয়ে ছাত্র জীবনের কথা বলি। কারণ ছাত্ররা ও যদি এই মোবাইল ফোনের বিষাক্ত ছোবলে বিষাদিত হয়। তাহলে আর কিছু বলার থাকে না। 

পোস্টসূচীপত্রমোবাইল ফোন ছাত্র জীবনের জন্যে প্রতিনিয়ত ক্ষতি সাধন হচ্ছে। আজকে এই নিবন্ধে আমরা জানব ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা সম্পর্কে। এর সাথে আরো জানব।  ছাত্রজীবনে মোবাইল ফোন কি কাজে লাগে, ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কি কি প্রভাব ফেলতে পারে, ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারিতা কতটুকু এবং ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো কি এই সমস্ত বিষয় নিয়ে ধাপে ধাপে আলোচনা করবো সাথে ই থাকবেন ।

ছাত্রজীবনে মোবাইল ফোন কি কাজে লাগে


মনে রাখবেন হবে বিজ্ঞানী নিউটনের তৃতীয় সূত্রের কথা। প্রত্যেক ক্রিয়ার ওই সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে। ঠিক তেমন করে মোবাইল ফোনের ও ভাল দিক এবং সমান ভাবে খারাপ দিক রয়েছে। কিন্তু মূলত আমাদের সমাজে ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন কি কাজে লাগে। একজন ছাত্র তার ছাত্র জীবনে ইন্টারনেট থেকে কোনো তথ্য খুঁজে বের করার জন্যে মোবাইল ফোন কাজে লাগে।
 
হতে পারে সেটা ইন্টারনেট থেকে ই-বুক খুঁজে পাওয়ার জন্যে। বা অনলাইন ক্লাস করার জন্যে। তবে এই বই থেকে তারা এই ইন্টারনেটের ধারণা পাই। বইয়ের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন কাজে লাগাতে  পারে। তার চেয়ে আর বেশি কিছু প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না । 

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কি কি প্রভাব ফেলতে পারে 


ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন ব্যবহারে অনেক মন্দ প্রভাব পড়তে পারে। তারপর ও ব্যবহারে সতর্কতার জন্যে বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনেক ব্যবস্তা নিচ্ছে। ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে বিভিন্ন রকম বুলিং এর শিকার হতে পারেন। আবার বিভিন্ন রকম নিপিড়ন ও হতে পারে । 

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা

অরাজক অবস্থা তো আছেই। ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে মনে মনে একজন আরেকজনের প্রতি বিদ্বষ ভাব আস্তে পারে। পড়ালেখায় অমনোযোগী এবং সর্বোপরি শরীর ও মনের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে ।

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারিতা


আমি আগেই বলেছি প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ঠিক ei আর্টিকেলটিতে ও সেই কথা বলা হয়েছে । ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা নই শুধু  উপকার ও রয়েছে। যেমন বর্তমানে ছাত্র ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে গিয়েই পড়ালেখা করে না। মোবাইল ফোন দিয়ে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে শিক্ষা অর্জন করতে পারে বা জ্ঞান অর্জন করতে পারে এই ইন্টারনেট ব্যবহার করে। 


এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস করতে পারে। এবং উপকারিতার মধ্যে আছে এক বা একাধীক শিক্ষার্থীর মধ্যে এক জায়গায় বসে গ্রূপ স্টাডি করতে পারে। তাদের জ্ঞান অর্জন ভাগাভাগি করতে পারে। একজনের এসাইনমেন্ট আরেকজনকে শেয়ার করতে পারে। ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অনেক ।


ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সমূহ আমরা একে একে করে বলার চেস্টা করিছি আপনারা ও সাথে থাকবেন বন্ধুরা দয়া করে ।

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা

মস্তিষ্কের ক্ষতি করে


ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের যথেচ্ছা ব্যবহার মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে অনবরত। সুইস গবেষকেরা দীর্ঘদিন পরীক্ষা করে পেয়েছে যে, তরুণ বয়সের ছেলে মেয়েরা মোবাইলের ব্যবহারে যে ক্ষতি হচ্ছে তার মধ্যে মোবাইলের রেডিয়েশন । এই রেডিয়েশন নির্গত হওয়ার ফলে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্যে একটি নেতি বাচক প্রভাব ফেলছে। 

এই মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই খানে সব শ্রেণীর মানুষেরা। ছোট থেকে বড় সবার মধ্যে এই মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা কমছে না। এই রেডিয়েশন মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে। তাই বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল থেকে জানা যায়। এই অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে মানুষের মাথায় মস্তিষ্কে টিউমার এমনকি ব্রেইন ক্যান্সার ও হচ্ছে। ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা হিসেবে এই টাকে ও ধরা যায় ।

চোখের সমস্যা


ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার ক্ষতিকর দিকগুলির মধ্যে চোখের সমস্যা একটি বড় ক্ষতি। দীর্যক্ষন ধরে মোবাইল ফোন দেখার পরে আমাদের চোখের সমস্যা হয়। মোবাইলের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি আমাদের চোখের প্রচুর ক্ষতি সাধন করে। এন্ডি হেপওয়ার্থ নামক একজন ইংল্যান্ডের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলেন। 

আমরা যখন মোবাইল দেখি তখন মানুষের চোখের পাতা কম পড়ে তাই মোবাইলের ক্ষতিকারক রশ্মি আমাদের চোখের দীর্ধদিনের ক্ষতি করে। এছাড়া এই রশ্মির কারণে মাথা ব্যাথা, ঘাড় ব্যথা এমনকি মাইগ্রেনের ও সমস্যা পড়তে পারে। তাই ছাত্র জীবনকে অকালে মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে  চোখের সমস্যা করবেন না । প্রকৃতিকে দেখুন প্ৰকৃতির সবুজ বনায়ন দেখলে চোখের এই সমস্যা আর হবে না। 

আর ও পড়ুন ঃ

আসলে এই ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।  তার মধ্যে এই ঘুমের সমস্যা একটি। কারণ ছাত্র ছাত্রীরা এখন ঘুমাতে যাওয়ার আগে মোবাইল ফোন নিয়ে অনেক রাত পর্যন্ত সময় কাটায়। বিভিন্ন রকম সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে সময় কাটায়। 

এতে করে তাদের রাতের ঘুমের সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু একজন মানুষের পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম শারীরিক এবং মানসিক ভাবে সুস্থ এবং সবল রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু সেই মূল্যবান ঘুমকে একমাত্র মোবাইল ফোন ব্যবহারের দ্বারা নষ্ট করছে। শুধু তাই নই , বিভিন্ন রকম ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার থেকে শুরু করে পর্ন সাইটে জড়িয়ে পড়ছে। এবং অপব্যবহার হিসেবে গেম খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ছে যা ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করছে ।

কানে কম শোনা


কানে কম শোনা ও একটি মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকারণ দিক। কেননা বর্তমানে যে হারে হ্যাডফোনের প্রচলন রয়েছে। যা শ্রবণ শক্তি হ্রাস পাওয়ার জন্যে  যথেষ্ট। মোবাইল ফোন ব্যবহারে কানে কম শোনা যায়। একটি হ্যাডফোন যে হরে ফ্রিকোয়েন্সি নির্গত করে সেটা কিন্তু কানে কম শোনার জন্যে যথেষ্ট। 

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনেই (WHO ) একটি  গবেষণায় জানা যায় যে ,একটি হ্যাডফোনের মাধ্যমে যদি আপনি ১০০ ডেসিমেল বা তার চেয়ে বেশি শব্দ নির্গত হয় তাহলে আপনি প্রতিদিন ১৫ মিনিট যদি শোনেন তাহলে আপনি স্থায়ীভাবে কানের সমস্যায় ভুগবেন। এছাড়া এখন ছাত্র ছাত্রীরা কানে হ্যাডফোন দিয়ে, গান শুনতে শুনতে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত শব্দ হ্যাডফোন দিয়ে নির্গত হচ্ছে বলে। কানে কম শুনতে পাওয়ার ফলে রাস্তায় দুর্ঘটনা হচ্ছে । 

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা কি কি ?


ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা হিসেবে কিছু সমস্যা আমরা লিস্ট আকারে বলার চেষ্টা করছি। 

  • পড়ায় অমনযোগীতা আসে 

  • চোখের সমস্যা হয় 

  • মন একগেয়েমি হয়ে যায় 

  • মস্কিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় 

  • মোবাইলের অপ ব্যবহার হিসাবে পর্ন সাইটে আসক্তি আসে 

  • বিভিন্ন রকম মাথার যন্ত্রনায় ভুগে

  • অকালে শ্রবণ শক্তি হারায় 


এই সব কিছু কিন্তু ছাত্র জীবন মোবাইলের অপকারিতা হিসেবে দেখা হয়। এছাড়া ও আরো অনেক প্রকার সমস্যার তৈরি হয় এই মোবাইল ফোনের অযতা ব্যবহারে। অপকারিতা মনে রেখে মোবাইল চালানো দরকার। কারণ না জেনে কিছু ব্যবহার করতে যাওয়া এক প্রকার নিজের ক্ষতি করা হয় । 


শেষ কথা


আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোন আমাদের অতি প্রয়োজনীয় একটি ডিভাইস। কিন্তু তারপর মনে রাখতে হবে। অকারণে যেন আমাদের প্রাণ সংশয় না হয় এই মোবাইল ফোনের জন্যে। ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ই নই। 

সব শ্রেনীর মানুষের জন্যে এই মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা সম্পর্কে আর কিছু বলার নেই আশা করি। তার পর ও কমেন্টস বক্স তো আছেই।  বলবেন। ভাল থাকবেন। নিজের খেয়াল রাখাবেন। সাবধানে থাকবেন। নিজের জীবনকে ভালবাসবেন ।

অববরত জিজ্ঞাসা (FAQ)


শুধু কি ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা রয়েছে নাকি সব শ্রেণীর জন্যে রয়েছে ?
হ্যা অবশ্যই সব শ্রেণীর জন্যে এই অপকারিতা রয়েছে। তবে ছাত্রদের জন্যে একটু বেশিই রয়েছে অপকারিতা ।
যেহেতু তারা নবীন , তাই ।

মোবাইল ফোনের অপকারিতা থেকে বাঁচতে নির্দিষ্ট কোন সময় আছে কি মোবাইল ব্যবহারের ? 
না সেটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যাপার নির্দিষ্ট সময় নই। তবে যার যার সুবিধা অনুযায়ী মোবাইল ফোনের
অপকারিতা থেকে বাঁচতে একটু কম সময় করে প্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার করা যায়। তবে মনে রাখবেন
সেটা আপনার সুবিধা বা ক্ষতির চিন্তা করেই ।    

মোবাইল ফোন ব্যবহারে কি শিশুদের উপর ও প্রভাব ফেলে?
হ্যা অবশই। আপনার মোবাইল ব্যবহার নিত্যদিন আপনার প্রিয় শিশুটির উপর ও প্রভাব পড়ছে নীরবে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সবারজন্যে.কম এর নীতিমালা মেনে এ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১